ঝরে পড়া শিশুদের পড়াশোনার স্বপ্ন দেখাচ্ছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন (রৌদ্দুর)

boikhatabd-roddur
boikhatabd-roddur

ঝরে পড়া শিশুদের পড়াশোনার স্বপ্ন দেখাচ্ছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন (রৌদ্দুর)
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কথা বলছি। এই উপজেলায় রয়েছে একটি রেলওয়ে স্টেশন যার নাম (মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন)। আর এই রেলওয়ে জংশন কে কেন্দ্র করে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে অসহায় লোকজনের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল আর আমাদের কাছে পরিচিত নাম বস্তি।

এই বস্তিতে ৬-১২ বছরের অনেক শিশু আছে যারা প্রথমকালে কিছুদিন স্কুলের বারান্দা পর্যন্ত গেলেও অভাবের তাড়নায় খাতা কলম ছেড়ে কাগজ কুড়ানোর বস্তা হাতে বের হয় প্রতিদিন সকালে।

লেখাপড়া তো দুরে থাক মৌলিক চাহিদার প্রথম স্তর খাদ্য আদৌ ঠিকমত পায় না তারা। পড়াশোনা করবে বড় হবে একদিন দেশের মুখ উজ্জল করবে এগুলো তারা কখনোই স্বপ্ন দেখার সাহস পায় না। কিন্তু এই উপজেলার কয়েকটি স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রী মিলে দ্বায়িত্ব্য নেয় স্বপ্ন দেখানোর বস্তির ঝড়ে পড়া শিশুদের। তাদের স্বপ্নের নাম দেয় (রৌদ্দুর)।

আপনি জেনে অবাক হবেন যারা তাদের এই স্বপ্ন দেখানোর মহান উদ্দেশ্যে কাজ শূরু করেছে তারা নিজেরাও সব একাদশ/দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রী। হয়তো নিজের পকেট খরচের টাকা বাঁচিয়ে সবাই একত্রিত করছে আর ওইসব ছোট ছোট কচি হাতে তুলে দিচ্ছে তাদের নতুন স্বপ্ন (বই,খাতা,কলম)। আগেই বলেছি এরা নিজেরাই স্টুডেন্ট তাই গাছের তলায় বিকালে বা শুক্রবারে শুরু হয় তাদের ভ্রাম্যমান ক্লাস। শুধু তাই নয় যারা ক্লাস করবে তারা পাবে একটি করে চকলেট। সত্যিই এমন স্বপ্নের নজির আরো হয়তো পাবেন তবে বাস্তবায়নের অভাব সেখানে। হয়তো কোন বড় আর্থিক সহায়তা পেলে এমন স্বপ্ন বাংলার প্রতিটা জেলা/উপজেলা/ইউনিয়ন/গ্রাম পর্যায়ে পৌছে যেত একদিন।

আমরা কথা বলেছিলাম এই সংগঠনের একজন সদস্যের সাথে। নিচেই তার বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হল:

ঝরে-পড়া-শিশুদের-পড়াশোনা
রোদ্দুর – কালীগঞ্জের রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন বস্তির ছোট ছোট বাচ্চাদের কাছে যেটা একটা স্বপ্নের নাম। কেনো স্বপ্ন বলছি???

বলবো সেটা তবে আগে আসুন জেনে নি রোদ্দুর সম্পর্কে। চলুন জেনে নি তাদের সদস্যদের নিয়ে। অবশ্যই জানা দরকার তাদের আয়ের উৎস।

প্রথমে আসি রোদ্দুর সম্পর্কে : রৌদ্দুর একটা সামাজিক সংগঠন। কাজ পথশিশুদের উন্নয়ন করা। কালীগঞ্জের একমাত্র সংগঠন যারা এই মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে।

রোদ্দুরের সদস্যরা সবাই ছাত্র/ ছাত্রী।তারা অধ্যায়ন করছে কালীগঞ্জের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। মানবিক এবং পরিবর্তনশীল সমাজ গঠনে যারা সর্বদা প্রস্তুুত। তারা স্বপ্ন দেখে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।

রোদ্দুর -একমাত্র সংগঠন। যাদের কোনো ডোনার নাই। যাদের কোনো আয়ের উৎসও নাই। সদস্যদের থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়েই তারা একেক পর এক মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

প্রথমে বলেছি পথশিশুদের কাছে রৌদ্দুর একটা স্বপ্নের নাম। এবার শুনুন কেনো বললাম :
ঝরে-পড়া-শিশুদের-পড়াশোনা
ঝরে-পড়া-শিশুদের-পড়াশোনা
প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই রোদ্দুর বদ্ধপরিকর ছিলো তারা সমাজের পরিবর্তন ঘটাবে। তারা শিক্ষার আলো পৌছে দিবে সবার মাঝে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। খোজ শুরু করা হলো শিক্ষা বঞ্চিত মানুষদের।

খোজ নিয়ে দেখা গেলো পথশিশুরা সবথেকে বেশী পিছিয়ে শিক্ষার থেকে। একটা সার্ভেও পরিচালনা করা হয় রোদ্দুর টিমের পক্ষ থেকে। সেখান থেকে জানা যাই স্টেশনের আশেপাশের শিশুরা শিক্ষা থেকে অনেক বেশী পিছিয়ে। তারা কেউ পড়াশোনা করছে। আবার অনেকে ঝরে গেছে। তবে যারা ঝরে গেছে তারা দমে যাই নি। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবার স্বপ্ন তাদের সকলের আছে। তারাও দেশের উন্নয়নে অংশ হতে চাই। কাজ করতে চাই সবার সাথে।

রোদ্দুর টিম তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের সাথি হলো। তারা পথশিশুদের শিক্ষার আলো দেবার জন্য চালু করলো ভ্রাম্যমান বিদ্যালয়। যার বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৫। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে শিক্ষার আলোয় নিজেকে আলোকিত করা মানুষের সংখ্যা।

তবে ওই যে রোদ্দুর টিমের কোনো আর্থিক সহায়তা করার কেউ নেই। পথশিশুদের শিক্ষার সামগ্রি কিনতে হিমশিম খেতে হয় রোদ্দুর টিমের। তারপরেও দমে যাইনি। কাদে কাদ মিলিয়ে তারা কাজ করছে। তারা একটি সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখছে। তারা স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

অনুরোধ করবো সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য। আপনাদের একটু সহযোগিতাই পারে নতুন স্বপ্ন দেখা মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে। পারে নতুন কিছু করতে।

তানভীর ইসলাম
রৌদ্দুর

আপনিও আপনার জায়গা থেকে এসকল সেবামুলক কাজে অংশ নিতে পারেন এবং সর্বশেষ কিছু না পারলেও এসব কাজগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।



এ পোষ্টটি 316 বার পড়া হয়েছে.